ত্বকী হত্যার ৯৯ মাস, ঘাতকদের বিচারের দাবিতে আলোক প্রজ্বালন

শেয়ার করুন

ত্বকী হত্যায় চিহ্নিত ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচার শুরুর দাবি জানিয়ে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে। ছবি: প্রথম আলো


নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৯৯ মাস উপলক্ষে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তনের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, প্রদীপ ঘোষ, সহসভাপতি ধীমান সাহা, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, সমগীতের সভাপতি অমল আকাশ, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সমমনা সভাপতি দুলাল সাহা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি বলেন, আট বছর পেরিয়ে গেলেও ত্বকী হত্যার বিচার এখনো শুরু হয়নি। এ দায় যতটা না বিচারব্যবস্থার, তার চেয়ে বেশি সরকারের। কারণ, তদন্তে যখন ত্বকীর ঘাতক সরকারদলীয় চিহ্নিত হলো, তখনি সরকার এ বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য সরকার ত্বকী হত্যায় অঘোষিত ইনডেমনিটি জারি করে রেখেছে। দেশে সুশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র—সবকিছুই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সবকিছু দলীয়করণ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ধ্বংস করেছে সরকার। বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের স্বাভাবিক গতিকে ধ্বংস করেছে।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ বলেন, ‘একজন গডফাদার তার ভাতিজাকে নিয়ে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। গডফাদারকে রক্ষার জন্যই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে এ হত্যার বিচার শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’

কর্মসূচিতে ভবানী শংকর বলেন, আজ ত্বকী হত্যার যেমনি ৯৯ মাস, তেমনি একটি বিচারহীনতারও ৯৯ মাস। সরকারের বৈষম্যমূলক বিচারব্যবস্থার কারণে এ দীর্ঘ সময়েও ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *